যখন আকাশে চাঁদ

যখন আকাশে চাঁদ ফুলে ওঠে
মেঘের পালঙ্কে শুয়ে মধ্যবিত্তা গর্ভিণীর মতো
তখন বিষয়ী জীব আমি এক
হেসে উঠি উচ্চৈঃস্বরে মূঢ়তাবশত

চোখে জাগে সেই চাঁদ ত্রয়োদশ— চতুর্দশ শতাব্দীর
মোমের ফেনার হাতে সৃষ্ট সেই বেগুনি সাগর
অনেক প্রকাণ্ড পালে অবিস্মরণীয় সব আরব-জাহাজ
এখানে চাহিত এসে মসলিন— কাসিকার সোনালি কাপড়

বিনিময়ে সোনা তারা দিয়ে যেত। অথবা অদ্ভুত হাসি।
অথবা শিখায়ে যেত এই সেই মানুষীকে দু’-একটা গুপ্ত জাদুবল
আমার টেবিলে এই কালির দোয়াতে আছে
সেই সব স্বপ্নের খানিকটা রক্ত-চলাচল

কলমের নিব থেকে তবুও তির্যক কালি ছুটে
সেই স্বপ্নবিম্বকে গিলে ফেলে রাহু’র মতন
এখন অদ্ভুত ছবি শ্রাবণের মাঝরাতে
কষ্টিপাথরের মতো সব মেঘের গম্বুজ আচ্ছাদন

ধ’রে আছে। সুভদ্রা রায়ের কথা মনে পড়ে
কুড়ি বছরের পর বঙ্কিম মিত্রর কথা ভাবি
মাইল-টাক পথের ভিতরে আজও এ-দেশেই র’য়ে গেছে তারা
তারাও পেল না খুঁজে ভাঁড়ারের চাবি

জল খেয়ে বুড়ো হল— ঘাস আর পাথরের সাথে
দুই পাটি দাঁত গেলে হিম হয় মানুষের নাড়ি
হিমিক্ষা হোমিক্ষা আজও তাহাদের নাম তবু, আহা
নকল দাঁতের চেয়ে দৃঢ়তর তাহাদের মাড়ি

চশমার সুতো কানে বঙ্কিম এখনও সহনীয়
তবু তারা বেঁচে আছে ব’লেই তো মারা যায় মাঠে
শ্রাবণের স্ফীত চাঁদ; পূর্ণ অন্তঃসত্ত্বা তার গৃহিণীর স্বর্গীয় প্রতীক।
অথবা অনেক দিন বেঁচে থেকে হয়েছে আমার চোখ নিবিড় ধোঁয়াটে।

Comments

সর্বাধিক পঠিত কবিতা

যত দূর চোখ যায়

তবুও সে আসবে না আর

পটভূমির ভিতরে গিয়ে

যাত্রী

ভাঁড়ের মৃত্যু: ১৯৩৬

এইখানে প্যাকাটির মতো

আকাশের চাঁদ

সূর্য রাত্রি নক্ষত্র

প্রার্থনা

পটভূমি